যারা করতে চান রেন্ট কার ব্যবসা…

0
1615

মন চাইলেই দূরে কোথাও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে যাওয়া কিংবা অনুষ্ঠানাদিতে গাড়ি ছাড়া কি আর হয়। এ জন্য প্রথম আমরা সবার আগে যার কথা মনে করি সে রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী। আপনি জেনে না থাকলেও এ ব্যবসায় কিন্তু বেশ লাভজনক। নিজের গাড়ি না থাকলেও শুধু ভাল যোগাযোগ থাকলে শুরু করতে পারেন এ ব্যবসা। আর হাতে কিছু পুঁজি থাকলে তো কথাই নেই।প্রথম দিকে গাড়ির মালিক এবং গ্রাহকের মধ্যে মধ্যস্বত্বকারী হিসেবে শুরু করতে পারেন। এজন্য খুব বেশি পুঁজির প্রয়োজন হবে না। শুধু একটি দোকান বা অফিস হলে হবে। প্রথম দিকে দোকানের জায়গা ছোট হলেও চলবে। সেই সাথে তেমন সাজসজ্জারও প্রয়োজন নেই। তবে চেয়ার-টেবিল ও একটি আলমারি থাকলে ভালো হয়। দুটি গাড়ি নিয়ে শুরু করতে পারেন। আর নিজস্ব গাড়ি নিয়ে শুরু করলে বিশ্বস্ত, দক্ষ এবং বৈধ লাইসেন্সধারী চালক নিয়োগ দিতে ভুল করা যাবে না।। এলাকায় পরিচিতি বাড়াতে হবে, প্রচার প্রচারণা করতে হবে। ধৈর্য এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনা এই ব্যবসার সফলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।অন্যান্য ব্যবসার মতো রেন্ট-এ কারের ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজন হয় ট্রেড লাইসেন্সের। এর সঙ্গে বিআরটিএ থেকে রেন্ট-এ কার ব্যবসার অনুমতিও নিতে হয়। সেই সঙ্গে স্থানীয় রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য হতে পারেন। এতে বাড়তি কিছু সুবিধা পাবেন । আর নিজস্ব গাড়ির জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন কাগজপত্রের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রোড পারমিট, লাইসেন্স, বীমা ইত্যাদি। সেই সাথে ট্যাক্স-টোকেনও করিয়ে নিতে হবে। গাড়ির কাগজপত্রের জন্য দালালের দ্বারস্থ না হয়ে সরাসরি অফিসে গিয়ে কাগজ করানো উচিত।প্রাইভেট কার এবং মাইক্রো এ দুই ধরনের গাড়ি গ্রাহকরা বেশি ভাড়া নেয়। তবে গাড়ি যেটাই হোক না কেন এর রং, নতুনত্বই গ্রাহককে বেশি আকৃষ্ট করে। তাই গাড়ির মলিকের সঙ্গে চুক্তির সময় এ দুটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। আর নিজেই গাড়ি কিনতে চাইলে গাড়ির শোরুমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নতুন গাড়ি দিয়ে শুরু করতে না চাইলে পুরাতন গাড়ি নতুন দামের ৩ ভাগের ২ ভাগ বা এর চেয়েও কম দামে কিনতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।রাজধানী ঢাকার কাকরাইল, তেজগাঁও, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় গাড়ির শোরুম আছে। এসব শোরুম থেকে কিনতে পারেন। এ ছাড়া আমদানিকারকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেও পছন্দ অনুযায়ী গাড়ি কিনতে পারেন।
বডি ভাড়া, প্যাকেজ এবং মাসিক ভাড়া। এই তিনভাবে গাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। বডি ভাড়া পদ্ধতিতে গাড়ির গ্যাসসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ সেবাগ্রহীতা বহন করেন। এ ক্ষেত্রে এক দিনের জন্য গ্রাহককে দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। প্যাকেজ পদ্ধতিতে দূরত্ব বিবেচনা করে গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। মাসিক ভাড়া পদ্ধতিতে কিলোমিটার হিসাব করে ভাড়া আদায় করা হয়। বিভিন্ন কোম্পানি মাসিক ভাড়া পদ্ধতিতে রেন্ট-এ কার থেকেও গাড়ি ভাড়া নেয়।রেন্ট-এ কার ব্যবসায় লাভের পরিমাণ নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। গাড়ি নিজস্ব না হলে প্রতি হাজারে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা কমিশন পান রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী। আর নিজস্ব গাড়ির ক্ষেত্রে ভাড়ার পুরোটাই চলে আসে রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ীর পকেটে। মাসিক ভাড়ার ক্ষেত্রে কিলোমিটার হিসাবে ভাড়া পাওয়া যায়। তবে গাড়ির পরিমাণ যত বেশি থাকবে এবং যত বেশি ভাড়া দেওয়া যাবে, লাভের পরিমাণ তত বেশিই হবে।রেন্ট-এ কার ব্যবসার পাশাপাশি দোকানে অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসাও করতে পারেন। এর মধ্যে মোবাইল ফোনে টাকা রিচার্জ, ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজ করতে পারেন। রেন্ট-এ কার ব্যবসার সফলতা নির্ভর করে পরিচিতির ওপর। এজন্য আপনাকে অবশ্যই পরিচিতি বাড়াতে প্রচার প্রচারণা করতে হবে।
সাবধানতা:
* গাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে গ্রাহক সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিতে হবে।।
* পরিচিত, দক্ষ এবং বৈধ লাইসেন্সধারী চালক নিয়োগ দিতে হবে।
* গাড়ির আনুষঙ্গিক কাগজপত্র যথাসময়ে নবায়ন করিয়ে নিতে হবে।
হাসনাত করিম/উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here